একটি পাখির মতো একটি নদী যদি ওড়ে -আউল বাউল পথে //সূর্য নন্দী

আউল বাউল পথে

সূর্য নন্দী

পাঠক


অনিমেষ দত্ত 


আগুন যদি লাগে তো তোমার বাড়ির পাশে আমারও বাড়িঘর/তোমার চোখের জলের পাশে আমারও তো চোখের জল!-কবিতার সৃজনে কবির বিচরণ পাশে থাকা কবিতাঘরের মতো।মলাটের উল্টো পাশে 'প্রতিবাসী' কবিতা যেন এক নতুনের সন্ধান দেয়।কবি সূর্য নন্দী-র চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ 'আউল বাউল পথে' যার মধ্যে ৫৪ টি কবিতা গায়ে গা লেগে একটি ছোট্ট ঘরে স্হান পেয়েছে।এর মধ্যে ৩৪ টি কবিতা 'বিশ্বস্ত গান' রূপে এবং ২০ টি কবিতা 'উত্তম পুরুষ ও প্রতিবাসী' হয়ে স্হান পেয়েছে।যেন বাড়ি একটি কিন্তু কামরা দুটি,যদিও মাঝে একটি দরজা রয়েছে।কবি নিজেকে আউল বাউল পথের পথিক করে কখনও নিজেই যুদ্ধে নেমেছেন নিজের বিরুদ্ধে।কবির হাতে একতারা সঙ্গে গৃহস্থ জনিত ক্ষত আর সুখ দুঃখ।

কবিতার মতো এক অমল মানুষ প্রয়াত রামেশ্বর পানিগ্রাহী-কে এ কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করা হয়েছে।তাকে নিয়ে একটি কবিতা 'কবির মতো অহংকারী' কাব্যের একটি দিক।যেখানে অাকুল জ্যোৎস্নায় অবগাহন,তেমনি দুঃখ ভূলে অনুদিত আহ্লাদের স্বাদ কবিতার ছত্রে ছত্রে।

'স্বপ্নসম্ভব' কবিতায় দেখা যায়-

একটি পাখির মতো একটি নদী যদি ওড়ে/একটি নদীর মতো একটি পাখি যদি ভাসে...কার কি বলার আছে,বলো!

চক্রপরিক্রমায় কিছু গান ফিরে আসে কবিতায়।




'কবিতা প্রতীম' কবিতায় আনন্দ ও বিষন্নতা কবির ভাষাতে মিশে থাকে-গদ্যে পদ্যে দুঃখ সুখ মিশে থাকেই/একদিন ডেকেছিল,কবিতা,ভালোবাসাতেই।আবার কোথাও দেখা যায় রাজার প্রাসাদ কিমবা ইতিহাসের ফসিল  যদিও তা পরে মিশে যায়' দুঃখ পাওয়ার পর' কবিতায়-তবুও অপেক্ষায় থাকে ছায়াপথ/আকাশে জ্বলে ওঠে গ্রহতারাচাঁদ।

ফিরে তাকানোর কিছু হাহাকার ফিরে আসে যেন 'সন্তানকে দিয়ে যাব' কবিতায়।

কাটা কাটা গন্ধ,ভাঙা ভাঙা শব্দ-দিনরাত/রাতদিন ভাঙছে মানুষ এভাবেই শুরু হয় ' ভাঙে দুই পাড় দুই বুকে ' কবিতা যেন সময়ের দুই দিকে মুখোমুখি বসে থাকা দুটি সম্পর্ক, দুটি ভাষা।এসবের মাঝেও -দূরে ভাসে লাশ,ভেসে যায় সম্পর্ক,ভাঙে ভাষা/ভাঙে দুই পাড় দুই বুকে।

কবির তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ 'শিকড় থেকে শিখরে', 'প্রথম গানের শেষ যুদ্ধে' যে সব ভুলে যাওয়া গান রয়েছে তাই নতুন রুপে ফিরে আসে বিশ্বস্ত গান রুপে যদিও ' মুখ থেকে খসে পড়ল মুখ।'

রুখে দাড়াবার 'এই তো সময়' কবিতায় কবির ভাষা ব্যক্ত হয় চাপা আর্তনাদে-

রক্তের ভিতর নদী যেন চলকে ওঠে আবার/গড়িয়ে যায় হিংসা পাড়ায় পাড়ায়/কার ঘরে কে আগুন লাগায়, কে ছুটে যায়।

কবিতা 'ভাস্কর্য'-এ আবার কারুর মুখে 'রা' নেই/সকলেই ছবি দেখছে/দিনযাপনের রঙীন ছবি।

'তোবড়ানো লোকটার কথা' কবিতায় কবি ব্যস্ত চৌষট্টি কলায়।

'বিপ্রতীপ' কবিতায় কবি তিরিশ বছরের পরের ছবি এঁকেছেন,পরের জন্য যুদ্ধ করার শেষে,দেশে ফিরে দেখি/ দেশ আর আগের মতো কাছে টানে না আমাকে।

কবিতায় কবি চতুর্দিকে মেঘ,বৃষ্টি এঁকেছেন।এ কাব্যগ্রন্থ শেষ হয় 'অ্যালবাম' কবিতা দিয়ে।কবি নিজে যেন প্রত্যেক কবিদৃশ্যের ছবি অসংখ্য সূর্যের সাথে হাতে তুলে দিয়েছেন।

মনমধ্যে হেটে গিয়েছে কিছু লাইন,

তোমার ঘরের পাশে আমারও একটি ছোট্ট ঘর/গায়ে গা লেগে আছে দুজনের দুই উঠোন/তোমার আমার আসা যাওয়ার একই সহবত/অথচ এখন ঘরের কোনে লুকিয়ে আছে ঈর্ষা-ক্রোধ!


Comments

Popular posts from this blog

রাষ্ট্রের অত্যাচার কেবলমাত্র জেলের বাইরে নয় জেলের ভিতরেও - নকশাল আন্দোলন ও বাংলা কথাসাহিত্য//ফটিক চাঁদ ঘোষ

প্রবন্ধের আলোচনায় লেখকদের উপন্যাস ও গল্পের তালিকা ও - বাংলা কথা সাহিত্যের খোঁজে // সালেহা খাতুন

শ্রাবণময় আকাশভাঙা চোখে - নকশাল আন্দোলন ও বাংলা কবিতা // ফটিক চাঁদ ঘোষ